ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ২২ আগস্ট ২০২৫ – ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তিতাস নদীর উপর অবস্থিত শেখ হাসিনা তিতাস সেতু (ব্রিজ নং ১)-এর যাতায়াত পথ এখন মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে রাস্তার নিচের মাটি ধসে যাওয়ায় এবং রাস্তার ব্লক সরে যাওয়ায় এই সেতুর পথটি এখন ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে, বিশেষ করে ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে।
কী ঘটছে শেখ হাসিনা তিতাস সেতুতে?
২০১৮ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) কর্তৃক প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই সেতু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে, সাম্প্রতিক বর্ষার কারণে রাস্তার নিচের মাটি ধুয়ে গেছে, যার ফলে রাস্তার গঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফাটল ধরা রাস্তা এবং উন্মুক্ত ভিত্তি এখন যাতায়াতের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। স্থানীয়রা জানান, এই অবস্থায় বাস, ট্রাক বা অন্যান্য ভারী যানবাহন চলাচল করলে সেতুর অংশ ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও আবেদন
স্থানীয় বাসিন্দারা এই সমস্যার জরুরি সমাধানের জন্য প্রশাসনের প্রতি বিনীতভাবে আবেদন জানিয়েছেন। তারা বলছেন, “এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ ও যানবাহন চলাচল করে। যদি দ্রুত মেরামত না করা হয়, তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা অনিবার্য।” এছাড়া, অতীতে তিতাস নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীরবর্তী এলাকায় ধস নামার ঘটনা ঘটেছে, যা এই সেতুর কাঠামোগত স্থিতিশীলতাকে আরও হুমকির মুখে ফেলেছে।
কেন এটি জরুরি?
শেখ হাসিনা তিতাস সেতু শুধু বাঞ্ছারামপুরের মানুষের জন্যই নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকার যোগাযোগের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল। এই সেতুর ক্ষতি বা বন্ধ হয়ে যাওয়া অঞ্চলের অর্থনীতি, দৈনন্দিন জীবনযাত্রা এবং জরুরি পরিষেবাগুলোর উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলবে। এছাড়া, বর্ষাকালে নদীর পানির স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
প্রশাসনের প্রতি আহ্বান
এলাকাবাসী এবং সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে স্থানীয় প্রশাসন, সড়ক ও জনপথ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানানো হচ্ছে। প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ হিসেবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো বিবেচনা করা যেতে পারে:
- জরুরি মেরামত: রাস্তার ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দ্রুত মেরামত ও শক্তিশালীকরণ।
- নিরাপত্তা ব্যবস্থা: ভারী যানবাহন চলাচল সীমিত করা এবং সতর্কতা সংকেত স্থাপন।
- নদী তীর সংরক্ষণ: তিতাস নদীর তীরে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ এবং তীর রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো নির্মাণ।
- নিয়মিত পরিদর্শন: সেতু ও এর আশপাশের রাস্তার নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণ।
আমাদের ভূমিকা
এই সমস্যা শুধু প্রশাসনের একার নয়, আমাদের সকলের। স্থানীয় বাসিন্দা, সামাজিক সংগঠন এবং গণমাধ্যমের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই ইস্যুতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব। আপনার যদি এই বিষয়ে কোনো তথ্য, ছবি বা অভিজ্ঞতা থাকে, তবে তা আমাদের সাথে শেয়ার করুন। আসুন, একসাথে নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করি।
আপনার মতামত জানান: এই সমস্যার সমাধানে আপনার পরামর্শ কী? নিচে মন্তব্য করুন বা আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন।
আপনি এবং জন অন্যরাব্রাহ্মণবাড়িয়ার শেখ হাসিনা তিতাস সেতুর রাস্তা ভাঙা ও মাটি ধসে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা। জরুরি মেরামতের দাবি জানাচ্ছে এলাকাবাসী। বিস্তারিত জানুন। https://t.co/yGA0iKgskH pic.twitter.com/p7fFvrQPeX
— Rabbil Islam 🇧🇩 (@onlinebd328) August 23, 2025

